32 C
Dhaka
Sunday, October 17, 2021
spot_img

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সায়মন ড্রিং মারা গেছেন

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নিধনযজ্ঞের খবর যিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের কাছে, সেই ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং মারা গেছেন।

অন্ত্রের সমস্যায় রুটিন সার্জারির সময় গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) তিনি মারা যান। লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশার এক ফেসবুক পোস্ট থেকে এ খবর জানা যায়।

সাইমন ড্রিং ষাটের দশক থেকে দীর্ঘসময় বিবিসিতে ওয়ার করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতময় দেশের যুদ্ধের ওপর রিপোর্টিং করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাইমন ড্রিং গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম বিদেশি সাংবাদিক। জীবন বিপন্ন রেখে সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর লোমহর্ষক নির্যাতন ও গণহত্যার কথা।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভরা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালোরাতে সাইমন ড্রিং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে লুকিয়ে ছিলেন।
২৭ মার্চ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রতিবেদন আকারে প্রেরণ করেন।
প্রতিবেদনটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে সাড়া জাগিয়েছিলো।

১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাকে জোরপূর্বক দেশ থেকে বের করে দেয়। ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে পুনরায় নভেম্বর, ১৯৭১ সালে কলকাতায় আসেন তিনি। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় খবরা-খবর নিরপেক্ষভাবে প্রেরণ করতেন।

১৬ ডিসেম্বর তারিখে বিজয়ের দিনে যৌথবাহিনীর সঙ্গে তিনিও ঢাকায় এসেছিলেন।

কর্মজীবনে সাইমন ড্রিং বাইশটি যুদ্ধ কাভার করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি খোমেনিকে প্যারিস থেকে ইরানে ফেরত যাওয়ার বিমানে ছিলেন। সাইমন বেশ কয়েকবার আহত হন এবং তাকে উগান্ডায় বন্দী করে রাখা হয়েছিলো। তাকে মৃত্যুদণ্ডের হুমকিও দেওয়া হয়েছিলো।

১৯৯৭ সালে ড্রিং বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশে আধুনিক টেলিভিশনের নতুন ধারা তৈরি করেন।

ইংল্যান্ডের নরফোকের ফাকেনহাম শহরে ১১ জানুয়ারি, ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন সাইমন ড্রিং।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,044FansLike
2,986FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles