30 C
Dhaka
Thursday, September 16, 2021
spot_img

বাড়ছে তাপমাত্রা, উত্তপ্ত হচ্ছে কলকাতা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বিপদের মুখে ‘সিটি অফ জয়’৷ কলকাতার তাপমাত্রার এমন বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনেও৷ ইতিমধ্যে সেখানকার সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে৷
গত ৭০ বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ৷ আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের এমন বিপর্যয়ের মাশুল দিতে হতে পারে  বাংলাদেশকেও৷
রাষ্ট্রসংঘের অধীন ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) বিশ্বের ২০টি শহর ও এলাকার উপর সমীক্ষা চালিয়েছে৷গত সাত দশকের জলবায়ু পর্যবেক্ষণের পর এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়৷ হিসেব অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্বের নিরিখে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কলকাতা মহানগরের৷ এসময়ে শহরটির তাপমাত্রা বেড়েছে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ কলকাতার পরে রয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরান৷ সেখানে ভূপৃষ্ঠের উপরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়েছে ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ তৃতীয় অবস্থানে আছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো৷ সেখানে এই বৃদ্ধি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷

কেন বাড়ছে তাপমাত্রা

সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতায় এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ দায়ী লাগামছাড়া নগরায়ণ৷ ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি শিল্পোন্নত দেশের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা থেকে মিশর কিংবা চীন, জাপানের বিভিন্ন শহর ও এলাকার জলবায়ুর উপর গবেষণা চালিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের প্যানেল৷

ভূপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ার একাধিক কারণ দেখানো হয়েছে প্রতিবেদনে৷ বলা হচ্ছে, উঁচু উঁচু বাড়ি কাছাকাছি থাকায় বায়ুমণ্ডল তাপ মুক্ত হতে পারছে না, আটকে থাকছে ভূপৃষ্ঠের আশপাশে৷ তাছাড়া বহুতল নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রী তাপমাত্রা ধরে রাখছে৷

পরিবেশবিদ্যার গবেষক ও অধ্যাপক ডঃ তড়িৎ রায়চৌধুরি বলেন, ‘‘এই তাপমাত্রা মানুষের কার্যকলাপের ফলশ্রুতি৷ এই অপরিকল্পিত শহরে অল্প পরিসরে বহু মানুষ রাস্তাঘাটে জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে, অটোমোবাইল বা বিদ্যুতের ব্যবহার করে প্রচুর তাপ উৎপাদন করে৷’’
অর্থাৎ সাধারণ মানুষের গতিবিধির ফলে তাপ বেরিয়ে মিশছে বাতাসে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানের (উপকূল এলাকা) অধিকর্তা অধ্যাপক তুহিন ঘোষ বলেন, ‘‘শহরতলির তুলনায় শহরে তাপমাত্রা অনেক বেশি৷ যেহেতু কলকাতায় শক্তির ব্যবহার বেশি হয়, সবুজও কম আর দূষণও অত্যাধিক সে কারণে কলকাতার উপরেএকটা কুয়াশার স্তর থাকে৷ আর তাই তাপমাত্রা ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত হতে পারে না৷ শহরতলি এলাকায় যে তাপমাত্রা তৈরি হা তা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়৷ কলকাতায় তা হচ্ছে না৷ ফলে তৈরি হচ্ছে হিট আইল্যান্ড৷’’

এদিকে এমন উষ্ণায়নের ফলে শুধু কলকাতা নয়, বিপন্ন হয়ে পড়ছে সুন্দরবনও৷ জাতিসংঘের প্রতিবিদেন প্রস্তুতকারকদের একজন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক সইফুল ইসলামের মতে, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে সুন্দরবন এলাকা আরও দুর্যোগের মধ্যে পড়বে৷ যার ফল কলকাতার পাশাপাশি ভুগতে হবে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলকেও৷

পশ্চিমবঙ্গের উপকূল অঞ্চলে সমুদ্রের জলস্তর ইতিমধ্যেই বেড়েছে৷ এভাবে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ভূমিক্ষয় হবে, বাড়বে প্লাবনের প্রবণতা৷ রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়, এই শতকের শেষে সুন্দরবন লাগোয়া সমুদ্রের জলস্তর ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে৷ বার বার হানা দেবে ঘূর্ণিঝড়৷

কলকাতায় এখন চার-পাঁচ শতাংশ সবুজ এলাকা৷ সেটা আগে ছয়-সাত শাতংশ ছিল৷ সবুজ এলাকা এভাবে কমে যাওয়ার ফলে ‘হিট আইল্যান্ড’ তৈরির সম্ভাবনা বাড়ছে৷
এমনটাই মনে করেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যার প্রাক্তন অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সাঁতরা৷ তিনি বলেন, ‘‘কংক্রিটের রাজত্বে তাপমাত্রা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তাহলে বড়সড় পরিবর্তন চোখে পড়বে৷ পরিযায়ীরা এমনিতেই আসা কমিয়ে দিয়েছে৷ বাসস্থানের অভাব এবং তাপমাত্রা দুটোর কারণে কমে যাচ্ছে ছোট ছোট পাখিও৷’’

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,044FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles