29 C
Dhaka
Friday, September 24, 2021
spot_img

আবার বন্ধ হলো নৌযান

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। তবে রোববার (১ আগস্ট) রপ্তানিমুখী সব পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় কাজে যোগ দিতে শুক্রবার রাত থেকেই হাজার হাজার শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রা শুরু করেন। তাদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ দিতে সরকার শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। ভিড় থাকায় পরে রোববার ১২টায় লঞ্চ বন্ধ না করে চালু রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। ৩৮ ঘণ্টা চালু থাকার পর সোমবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত সরকারি যে ঘোষণা রয়েছে, তাতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

সোমবার রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরে দেখা যায়, ভোর ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের চাপ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে চাপ কমতে থাকে। ভোরে যাত্রীদের ভিড়ে পন্টুনে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। সেখানে মাস্ক ছাড়াই যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে। লঞ্চ টার্মিনালে হকাররা ঝালমুড়ি, আম, আপেল, খেজুরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে গিয়ে বিক্রি করছেন। তাদের কারও মুখে নেই মাস্ক। হাত পরিষ্কার না করেই খাচ্ছেন কেউ কেউ। ফলে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা হচ্ছে না কোথাও। তবে সব যাত্রী নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাওয়ায় সকাল ৭টার পরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল একে বারে জনশূন্য হয়ে পড়ে। টার্মিনালে সারি সারি লঞ্চ, কিন্তু কোনো যাত্রী নেই। নেই কোনো হাঁক ডাক৷ এরপর সকাল ১০টায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়

দেড় দিন লঞ্চ চলার পর সোমবার সকাল ১০টা থেকে ফের বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান। গত দেড় দিনে আশানুরূপ যাত্রী হয়নি। সরকার ধাপে ধাপে অনুমিত দেওয়ায় এ সুবিধা কেউ নিতে পারেনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের
ট্রাফিক বিভাগ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো নৌপথ। শনিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রুটে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে গেছে মাত্র ১০টি লঞ্চ। এর মধ্যে পাঁচটি লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না। এসময়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এসেছে প্রায় ৩৭টি লঞ্চ। দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চগুলো সাধারণত ভোর ৫ থেকে ৬টার মধ্যে চলে আসে।

এদিকে গত ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এরপর মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর ‘বিধি-নিষেধ’ শিথিল করায় ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে নৌযান চলাচল করলেও ২৩ জুলাই ৬টার পর আবার সব বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ৩০ জুলাই দেশের সব রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা খোলায় প্রথমে ১৬ ঘণ্টা, পরে আরো ২২ ঘণ্টাসহ মোট ৩৮ ঘণ্টার জন্য লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। ৩৮ ঘণ্টা শেষে সোমবার সকাল ১০টা থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার ও অন্যান্য) চলাচল বন্ধ থাকবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,044FansLike
2,954FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles